[রিপোর্টে:- রকিবুল ইসলাম ম্যাক কুমিল্লা]

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ‘ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু’র সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চার সাংবাদিককে মারধর ও একটি কক্ষে আটকে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী পাঁচ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

শুক্রবার (২১ মার্চ) রাত পৌনে ১১টার দিকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৭ম তলায় এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকরা হলেন যমুনা টিভির কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী খোকন, চ্যানেল ২৪-এর কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি মো. জাহিদুর রহমান, যমুনা টিভির ক্যামেরাপার্সন জিহাদুল ইসলাম সাকিব ও ইরফান। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে সাংবাদিকদের উদ্ধার করে।

ঘটনার প্রতিবাদে কুমিল্লায় কর্মরত সাংবাদিকরা কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এ ছাড়া ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে শনিবার বেলা ১১টার দিকে কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও পূবালী চত্বরের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক নেতারা জানান, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

ভুল চিকিৎসায় নিহত পারুলের স্বজন সাইফুল মাহিন জানান, তাঁর খালা ৭ম তলার একটি ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। পরে ওই ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক একজনের ইনজেকশন ভুল করে তাঁর খালাকে দেওয়ায় দুই মিনিটের মধ্যে তাঁর খালা মারা যান। এই খবর পেয়ে সাংবাদিকরা এলে ওয়ার্ডের চিকিৎসক ও বাইরে থেকে আসা মেডিক্যালের ছাত্র ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা তাদের মারধর করে একটি রুমে আটকে রাখে। তাদের হাতে ক্রিকেটের স্ট্যাম্প, লাঠি ও পাইপ ছিল।

যমুনা টিভির সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগের স্ত্রী ওয়ার্ডে ভুল ইনজেকশন দেওয়ায় কুমিল্লা নগরীর ধর্মপুর এলাকার পারুল নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়। ‘ভুল চিকিৎসায়’ ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যমুনা টিভি ও চ্যানেল ২৪-এর সাংবাদিকরা যান। এ সময় ভবনের চারতলায় উঠলেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে বাধা দেন। পরে তারা বহিরাগত আরো ছাত্র ও চিকিৎসককে খবর দেন। তারা এসে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং দুটি ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, ট্রাইপড ও চারটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে একটি রুমে আটকে রাখে।

যমুনা টিভির ক্যামেরাপার্সন জিহাদুল ইসলাম সাকিব জানান, তারা ‘ভুল চিকিৎসা’য় রোগীর মৃত্যু হয়েছে এমন খবর পেয়ে সেখানে যান। যাওয়ার পথেই কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাদের সবার হাতে স্ট্যাম্প, লাঠি ও পাইপ ছিল। তারা থেমে থেমে কয়েক দফায় হামলা চালায়।

এ ঘটনায় কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাসুদুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *